এনসিপি-গণঅধিকার পরিষদ একীভূত প্রক্রিয়া, চলছে নেতৃত্বের দর কষাকষি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারুণ্যনির্ভর দুই রাজনৈতিক শক্তি—গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)—একীভূত হওয়ার আলোচনা আবারও গতি পেয়েছে। আলোচনায় রয়েছে নেতৃত্বের কাঠামো, দলের নাম এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া। পাশাপাশি তরুণদের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপল অব বাংলাদেশও (আপ বাংলাদেশ) এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য থেকে উঠে আসা গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপি শুরু থেকেই একীভূত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। তবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হয়ে নুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একীভূত হওয়ার আলোচনা আবারও গতি পায়। এর পর থেকে দুদলের নির্বাহী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
নেতাদের মতে, মূল ইস্যুগুলো হলো—দলের নাম, নেতৃত্বের কাঠামো এবং নিবন্ধন। এনসিপি চাইছে দল বিলুপ্ত না করে বর্তমান কাঠামো বজায় রাখতে এবং নাহিদ ইসলামকে শীর্ষে রেখে নুরুল হক নুরকে সম্মানজনক পদে দেখতে। অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদ চাইছে নতুন কমিটি গঠন করে নাহিদ ও নুর উভয়কেই শীর্ষ পদে রাখা হোক। এমনকি সভাপতি ও নির্বাহী সভাপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও এসেছে।
দল দুটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, আপাতত নতুন নাম গ্রহণের সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া জটিল হলে গণঅধিকার পরিষদের নামেই ভোটে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, গণঅধিকার কর্মীরা নুরকে শীর্ষ পদে দেখতে চান, আবার এনসিপির কর্মীরা নাহিদ ইসলামকে প্রাধান্য দিতে চান। তবে উভয়পক্ষেরই তরুণ নেতাকর্মীরা ঐক্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, -আমরা একই আন্দোলন থেকে উঠে এসেছি। তাই একসঙ্গে পথ চলার বিষয়ে আন্তরিকতা আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আলোচনার মধ্য দিয়েই। প্রয়োজনে জনমত নেওয়া হবে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, -মানুষ আমাদের একসঙ্গে দেখতে চায়। তরুণদের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। আমরা সবাই আলোচনা চালাচ্ছি, ফল ইতিবাচক হবে বলে বিশ্বাস করি।
এদিকে, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মনে করেন, রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ঐক্য হলে তা দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের বাইরে তরুণদের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপল অব বাংলাদেশও (আপ বাংলাদেশ) আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারুণ্যনির্ভর এই একীভূত প্রক্রিয়া সফল হলে তা দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজুড়েই তরুণ নেতৃত্ব গড়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ঐক্যবদ্ধ হলে তারা রাজনীতির প্রথম সারিতেও উঠে আসতে পারে। আগামী নির্বাচনে তরুণদের জয়ের সম্ভাবনা ব্যাপক।



